০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন, তবুও বেঁচে গেলেন ক্রিস্টা

ক্রিস্টা পাইক  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক। গুরুতর অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি।

বুধবার ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তার শরীরে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। দুই দফা ওষুধ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু না হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ক্রিস্টার আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তিনি বেঁচে আছেন। তবে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।’

আইনজীবীরা এখন ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, তারা অন্যান্য আইনি পথও খতিয়ে দেখছেন। প্রথমে তারা নিশ্চিত হতে চান, ক্রিস্টা সুস্থ হয়ে উঠছেন কি না এবং এরপর তিনি নিজে কী চান, সে বিষয়ে মত দেওয়ার সুযোগ পান।

৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় ক্রিস্টার বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ক্রিস্টার শরীরে শিরায় ওষুধ দেওয়ার পথ তৈরিতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয় বলে জানান আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি। তার ভাষ্য, ক্রিস্টার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এর মধ্যে একটি সুচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল।

স্পাইভি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও ক্রিস্টা শ্বাস নিচ্ছেন—এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে রাখা হয়। ফলে ওই সময় পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, তারা তা দেখতে পাননি।

স্পাইভি বলেন, ‘পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কখন এবং কীভাবে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে সহায়তা করতে শুরু করেছিলেন, সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা ছিল না।’

ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে বুধবার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার অনুমতি দেয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ। পরে এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল একেবারেই বিশৃঙ্খল।’

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত ‘পূর্ণাঙ্গ’ হবে এবং এতে সময় লাগবে।

গভর্নর বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই তদন্তের উদ্দেশ্যই হলো সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।’

তবে তদন্ত কে পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসিতে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকা দোষী সাব্যস্ত খুনি গ্যারি সাটনের ক্ষেত্রেও এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে।

টেনেসি কারেকশন বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত ও আইনসম্মত নির্ধারিত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। বিভাগের ভাষ্য, ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ওষুধের কার্যকারিতা আগেও প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রথম প্রয়াস ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার ওষুধ দেওয়ার বিষয়টিও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ।

টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও স্বাধীন তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। দপ্তরটির ভাষ্য, ‘কী ঘটেছে, তা আমাদের জানতে হবে।’

চলতি বছরে টেনেসিতে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। সে সময় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য তার শরীরে শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।