স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করল ইতালি
ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক (বোরকা ও নিকাব) ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিতর্কিত অধ্যাদেশ জারি করেছে জর্জিয়া মেলোনির সরকার। পাশাপাশি ক্লাসরুমে বিদেশি বা অ-ইতালীয় ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১,০০০ ইউরো (প্রায় ১,১৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে এই নতুন নীতিমালায়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মেলোনির রাজনৈতিক দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ (এফডিআই)-এর যুব সম্মেলনে এই পরিকল্পনার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। জরুরি জারিকৃত এই অধ্যাদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইতালীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে হবে। একই সাথে সংবিধানে শিক্ষার সম-অধিকার রক্ষায় এটি দেশটির প্রেসিডেন্ট সেরজিও মাত্তারেলার চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব বন্ধের পদক্ষেপগুলো সাধারণ বুদ্ধিপ্রসূত ও ঐক্যের প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, ইতালি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে চায় যা নিয়ম বিসর্জন না দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় সমন্বিত করবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন রাখা কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি স্কুলে প্রবেশ করতে পারবে না এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভঙ্গের জরিমানা অভিভাবককে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া যেসব অভিভাবকের ভাষা ব্যবহারে তীব্র সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে সরকারের ভাষা শিক্ষার ক্লাসে অংশ নিতে হবে।
তবে রাজনৈতিক বিরোধী দল ও শিক্ষক সংগঠনগুলো এই নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করছে। বিরোধী বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান এলি শ্লেইন একে ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থার আসল সমস্যা ঢাকার চেষ্টা এবং একটি ‘লজ্জাজনক ও ভাবাদর্শগত চটকদার’ বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সাথে মেলোনি সরকারের ভোট রাজনীতির লড়াই হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইতালির মোট স্কুল শিক্ষার্থীর প্রায় ১১.২ থেকে ১১.৬ শতাংশ বিদেশি নাগরিক, এবং কেবল ৭.৬ শতাংশ ক্লাসরুমে বর্তমানে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী বিদ্যমান।