২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২৪

নিরাপত্তা পরিষদে যে দেশের স্থায়ী আসন চাইলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস  © সংগৃহীত

গাজায় নজিরবিহীন প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার, বিশ্বক্ষমতার পরিবর্তন, সামরিক শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সীমাবদ্ধতা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। খবর বিবিসির

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এসব সংকট একই গল্পের অংশ। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতার বণ্টন কারও হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, আবার কারও কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

গাজা প্রসঙ্গে গুতেরেস জানান, ৭ অক্টোবর হামাসের ভয়াবহ হামলার প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। কিন্তু এরপর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তার মাত্রা জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের বছরগুলোতে দেখা অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর একটি পরামর্শমূলক মতামতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, গাজায় জাতিসংঘকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং আমাদের কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ মেনে চলতে হবে।’ বিশ্বকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য অন্তত একটি স্থায়ী আসন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসন না থাকা অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। এটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।’

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে বিদ্যমান বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিষদে আফ্রিকার পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সে সময় আফ্রিকার বড় একটি অংশ ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টন করা হলেও এসব সদস্যের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মতো ভেটো দেয়ার ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য দুটি স্থায়ী আসন এবং আরও দুটি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।