রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেলেন পুতিন
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় জয় পেয়েছে। প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দলটি ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। এটি দলটির জন্য রেকর্ড সংখ্যক আসন এবং এর মাধ্যমে তারা পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখছে।
তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষ হওয়ার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, দলীয় তালিকায় ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। একক আসনের ২২৫টির মধ্যে দলটির প্রার্থীরা ২০৮টিতে এগিয়ে ছিলেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। একই সঙ্গে ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ও মস্কোর দাবিকৃত চার অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও এবার নির্বাচনের আওতায় রাখা হয়। এসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়ার পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপিআর, নিউ পিপল ও আ জাস্ট রাশিয়া পার্লামেন্টে আসন পেয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি, এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল ২০টি আসন পেয়েছে।
তবে নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। দেশটির একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এর আগে দলটিকে দলীয় তালিকার ব্যালট থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে নভগোরোদ আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটি ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ইয়াবলোকো ও কমিউনিস্ট পার্টি অভিযোগ করেছে, তাদের অনেক নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ভোটপ্রক্রিয়াকে নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ ছিল। ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ওএসসিই) নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারেনি।
নির্বাচনের ফলকে পুতিনের সরকার ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। পুতিন নিজেও নির্বাচনের আগে এটিকে যুদ্ধের প্রতি সমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে বিরোধী পক্ষ ও পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস রাশিয়ার নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ক্রেমলিন ভিন্নমত দমন করেছে, যুদ্ধবিরোধী দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্বাচন আয়োজনেরও নিন্দা জানিয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৫৯ শতাংশ ছিল। নির্বাচনটি ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।