২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৪

তারেক রহমানের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান  © ফাইল ফটো

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সোজা ম্যানহাটনের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ চলে যাবেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে বহুবছর পর তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। তারা প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। 

এ বিষয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আড্ডা রেস্টুরেন্টে এক মিট দ্যা প্রেস-এ বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ও সরাসরি একাধিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে মানুষের ঢল নামবে। তবে সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার অনুরোধ রইলো।

সরেজমিনে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন ও কুইন্সের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ প্রবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় তারেক রহমানের আগমন। সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশাল জমায়েত করে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়ী, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পৃথক মতবিনিময় সভার কথা রয়েছে।

মিট দ্যা প্রেস

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, তারা এই সফরকে কেবল রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে দেখছেন না, বরং মার্কিন নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির কাছে বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনার চিত্র তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। 

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। এবার তাকে স্বাগত জানানো ও বরণ করে নেওয়ার পালা। ইনশাআল্লাহ জে এফকে বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ঢল নামবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন বলেন, দলীয় মতাদর্শের বাইরেও বহু সাধারণ প্রবাসী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, বাফেলো, মিশিগান, টেক্সাস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন প্রদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অনেক নেতাকর্মী নিউইয়র্কে পৌঁছে গেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, আমাদের নেতা ও বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ বিশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মঞ্চে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।

নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী। তার সফর ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে উদ্দীপনা একটু বেশিই। তবে তাকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে যা করার সবই হয়েছে।

বৈশ্বিক মঞ্চে প্রথম ভাষণ দিবেন তারেক রহমান
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। 

এ বিষয়কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাফেলো বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন আবার এই অধিবেশনে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল লিটন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান বিশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। তিনি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ এবং বাংলাদেশ সভাপতি করার বিষয়টি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কারা
সরকারের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এ সফরে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে তিনি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সফরসঙ্গীর সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আরও থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর কাটছাঁটের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ উচ্চপর্যায়ের মোট পাঁচটি বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশ সম্মেলনের ফাঁকে দুটি ইভেন্টের আয়োজন করেছে।

আসাদ আলম সিয়াম আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে অনেক সময় অনেক কিছুই যোগ–বিয়োগ হতে পারে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।