সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী জোটের জয়, স্বস্তিতে অভিবাসীরা
সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছে মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট। ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্ট রিক্সড্যাগে চারদলীয় বিরোধী জোট পেয়েছে ১৭৬টি আসন। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকারপন্থী জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন। মাত্র তিন আসনের ব্যবধানে নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার সুইডিশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ফলাফল ঘোষণা করে। ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটিতে দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধানও ছিল তুলনামূলক কম। প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিরোধী জোট।
ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক চিঠিতে উলফ ক্রিস্টারসন জানান, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। এখন পার্লামেন্টের স্পিকার পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন। শুক্রবার স্পিকার আন্দ্রেয়াস নরলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস এবারের নির্বাচনে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তবে দলটি আগের নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা সমর্থন হারিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আন্দেরসনের সামনে এখন নতুন সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ।
বিরোধী জোটে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে রয়েছে লেফট পার্টি, গ্রিন পার্টি ও সেন্টার পার্টি। তবে এসব দলের মধ্যে আদর্শগত ও নীতিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টির অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সেন্টার পার্টি জানিয়েছে, লেফট পার্টি মন্ত্রিসভায় থাকলে তারা এমন সরকারে অংশ নেবে না। অন্যদিকে লেফট পার্টি সরকারে মন্ত্রিত্ব চায়। আন্দেরসনও লেফট পার্টিকে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তবে পার্লামেন্টে দলটির সমর্থন চান।
ফলে নির্বাচনে জয় পেলেও বিরোধী জোটের সরকার গঠন এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের আগে পার্লামেন্টে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়ে ভোট হওয়ার সুযোগ নেই। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে আন্দেরসনকে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
এদিকে এবারের নির্বাচনে অভিবাসী ভোটারদের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। গত চার বছরে সুইডেনে অভিবাসনসংক্রান্ত বেশ কিছু কঠোর নীতি ও আইন নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মধ্য-বামপন্থী দলগুলোর তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসী-অধ্যুষিত রিনকেবি এলাকায় মধ্য-বাম জোট বিপুল ভোট পেয়েছে এবং অভিবাসীদের মধ্যে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নির্বাচনি ফল নিয়ে স্বস্তির প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
তবে নতুন সরকার গঠিত হলেও অভিবাসননীতি কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস নির্বাচনের আগে তুলনামূলক কঠোর অভিবাসননীতি বজায় রাখার বিভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ফলে বিরোধী জোটের জয়কে অভিবাসননীতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের সমর্থনও কমেছে। ২০১০ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে দলটির ভোটের হার কমল। দলটি পেয়েছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট ও ৬২টি আসন, যা ২০২২ সালের তুলনায় ১১টি আসন কম।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নির্বাচনের ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, সুইডেনে সামাজিক গণতন্ত্রের জয় হয়েছে এবং দেশটির মানুষ কল্যাণরাষ্ট্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সবুজ এজেন্ডার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ক্রিস্টারসন নির্বাচনের রাতে আন্দেরসনের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানানোর কথা বলেন। একই সঙ্গে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে তাকে ‘শুভকামনা’ জানান।