১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩

আরেক দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন ট্রাম্প 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত

তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার পর এবার বরফাচ্ছাদিত আরেক দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়নি। খবর আল জাজিরার

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় আমরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করেছি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গ্রিনল্যান্ডে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের চিরদিনের জন্য থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ কোনো দেশকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক সদস্য মোতায়েন করতে দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে বাইরের কেউ সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে। 

ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এ জন্য দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সম্ভাব্য স্থান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর আগে কোপেনহেগেন ও নুক—উভয় জায়গার পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।


উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ দেখান ট্রাম্প। সবশেষ, চলতি বছরের প্রথম দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর ফের ‍গ্রিনল্যান্ড ‍নিয়ে মার্কিন আগ্রহের কথা জানান তিনি। অবশ্য ১৯৫১ সালের গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তিবলে বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলটিতে সামরিক ঘাঁটি রাখার অধিকার আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।