১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০

হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত ছবি

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণ হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  সহজ অথচ রাজনৈতিক স্বীকারোক্তি, ‘এরা নিয়মিত ফেইক নিউজ ছড়ায়।’ প্রবেশাধিকার হারানো এসব গণমাধ্যমে তালিকায় আরও আছে এমএস নাউ ও পলিটিকোর মতো বিখ্যাত প্রো আমেরিকান গণমাধ্যম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পচালিত প্রশাসনের সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, তাৎক্ষণিকভাবে ফেক নিউজ সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করছি। কারণ তারা নিয়মিত ভুয়া খবর প্রকাশ করে।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোর নিয়মিতভাবে ‘কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে আরও কিছু ‘ফেক নিউজ’ গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

পরে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সম্ভাব্য পরবর্তী গণমাধ্যম হিসেবে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নাম উল্লেখ করেন। তিনি এসব গণমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে’। তিনি দাবি করেন, রিপাবলিকান দল ও তার প্রশাসনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত শিগ্‌গিরই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা রয়েছে।

সিএনএন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসে থাকা তাদের সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে এবং ‘ন্যায্য ও নির্ভুল’ সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। এক বিবৃতিতে সিএনএনের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে সরকারি বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেটিকে ‘অবৈধ ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে বলেও জানান তিনি।

পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রশাসনের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াই করবে।

ট্রাম্পের আরেকটি দাবি—পলিটিকো সরকারি ভর্তুকি পেয়েছে; এটিও প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের যোগাযোগ বিভাগ এ দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এমএস নাউ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

অবশ্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভুয়া খবর নিয়ে বেশ সোচ্চার ট্রাম্প। তার অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যম তার প্রশাসনের বিষয়ে পক্ষপাতদুষ্ট ও নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পরও কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

প্রেসের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) বলেছে, পছন্দ না হওয়া সংবাদ প্রকাশের কারণে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার হুমকি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সংগঠনটি বলেছে, জনগণকে স্বাধীনভাবে তথ্য জানার সুযোগ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের কাজ সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।