১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০

সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা কেন বিতর্কিত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান  © সংগৃহীত

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নীতির এই পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের কিছু সদস্য।

শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি কেনার জন্য সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

এতদিন সৌদি আরবের এই চেষ্টায় বাধা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তাদের মিত্র ইসরায়েলের কাছেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হয়। আর মার্কিন আইন অনুযায়ী ইসরায়েলকে গ্যারান্টি দেওয়া আছে যে, আঞ্চলিক প্রতিবেশীরা যেসব আমেরিকান অস্ত্র পাওয়ার যোগ্য, ইসরায়েল তার চেয়ে সর্বাধুনিক মানের অস্ত্র পাবে।

রিয়াদের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই বা বাধা দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবই মার্কিন অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের ডেমোক্রেট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বৃহস্পতিবার এই অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমেরিকান সামরিক প্রযুক্তির রত্নভাণ্ডার কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’

অন্যান্য ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা এবং কিছু মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যকার নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের সুবাদে রিয়াদ সংবেদনশীল এই প্রযুক্তি চীনের সাথে লেনদেন করতে পারে।

যদিও বৃহস্পতিবার এই চুক্তি ঘোষণার সময় স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উদ্দেশ্যগুলোকে সমর্থন করবে।

বিবৃতিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে যে, এই চুক্তিটি নেটো-বহির্ভূত একটি প্রধান মিত্র দেশের নিরাপত্তা উন্নত করবে, যেটি উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি চালিকাশক্তি।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও যোগ করেছে, সরঞ্জাম ও সহায়তার এই প্রস্তাবিত লেনদেন এর ফলে ওই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে, যিনি গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন।

গত বছর মে মাসে রিয়াদেও এই দু'জনের বৈঠক হয়েছিল, যেখানে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়- যাকে হোয়াইট হাউস ‘ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বিক্রয় চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

সৌদি আরবের কাছে প্রস্তাবিত এই নতুন বিক্রয় চুক্তির মধ্যে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এর তৈরি ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশটি ইসরায়েলের সমকক্ষ হয়ে উঠবে, যাদের বহরে বর্তমানে ৫০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মে মাসে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এফ-৩৫ এর আরও একটি স্কোয়াড্রন কিনবে।

জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলের এফ-৩৫ এর বহরের আকার দ্বিগুণ হয়ে ১০০টিতে উন্নীত হবে। লকহিড মার্টিনের কেবল একটি এফ-৩৫এ জেটের দাম প্রায় ৮২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।

২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর, এর আগে রিয়াদের সাথে হওয়া অস্ত্র চুক্তিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের কথা বিবেচনা করেছিল, এই শর্তে যে- রিয়াদ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে, কিন্তু সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সৌদি আরব যখন ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত, ঠিক তখনই এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব এল।

হুথিরা সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত সরকারপন্থি বাহিনীর কাছ থেকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।

তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এর মধ্যে জড়ানো থেকে বিরত রয়েছেন।