১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা  © সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গী ও সন্তানকে দেশটিতে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের নিয়মও কঠোর করা হবে। তবে প্যাসিফিক ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থী এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবার নেওয়ার সুযোগ থাকছে।  বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

গত বছর অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ভিসা পেয়েছেন মূল আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য বা নির্ভরশীলরা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই সুযোগ আর থাকবে না।

সরকারের পরিকল্পনায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা এবং এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা বা ‘ভিসা হপিং’ বন্ধের উদ্যোগও রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ২ লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামানো। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অভিবাসন প্রবাহ কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।

এ ছাড়া নতুন পরিকল্পনায় ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা, কর্মসংস্থানের চাহিদা রয়েছে এমন খাতের জন্য ভিসা অগ্রাধিকার এবং ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের জন্য লটারি ব্যবস্থা চালুর মতো পরিবর্তনও রয়েছে।

কেন অভিবাসন কমাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
কোভিড-১৯ মহামারির পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর দেশটিতে অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও সাময়িক দক্ষ কর্মীরা অভিবাসন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে ওঠেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছায়। ২০২৪ সালে তা কমে ৪ লাখ ২৯ হাজার এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে ৩ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়ায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট নিট অভিবাসনের অর্ধেকের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কলারশিপ নিয়ে পড়ুন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে, মাসিক উপবৃত্তিসহ থাকছে যেসব সুবিধা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থী ভিসাসহ বিভিন্ন সাময়িক ভিসা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এর আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার মতে, শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

আবাসন সংকটও বড় কারণ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বাড়ার সঙ্গে আবাসন, অবকাঠামো ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ বাড়ছে এমন সমালোচনা রয়েছে। তবে সরকার বলছে, অভিবাসন কমানোর নীতি তৈরির ক্ষেত্রে শুধু মোট সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না; কোন ধরনের ভিসায় কতটা নিয়ন্ত্রণ আনা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আগস্টে বার্ক বলেছিলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও আঞ্চলিক সম্প্রদায়গুলোর শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসংক্রান্ত আলাদা চাহিদা রয়েছে। অভিবাসন কমানোর ক্ষেত্রে শ্রমবাজারের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নির্মাণের মতো খাতে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ওয়ান নেশনের চাপ
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নতুন বিধিনিষেধের আলোচনা অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে। ডানপন্থি ওয়ান নেশন পার্টি সম্প্রতি তিন বছরে সাময়িক অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। পরে দলটি বছরে মোট বিদেশি অভিবাসন ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমিত করার প্রস্তাবও দেয়।

তবে সরকার বলছে, অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিবেচনা করা হবে। বার্ক এর আগে বলেছিলেন, অভিবাসনসংক্রান্ত পরিবর্তন খণ্ড খণ্ডভাবে নয়, সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।