বিশ্ব বাজারে কমল তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করায় দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে ইউরোপে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে। খবর রয়টার্সের
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১৩টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩০ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইউরোপীয় ক্রেতাদের কয়েকটি চালান বাতিল করার খবরের পর বাজারে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
তবে সৌদি আরব এখন ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিচ্ছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর বিকল্প পথে এই সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ‘পারস্য উপসাগর থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির খবর থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার যে উদ্বেগ ছিল, তা কিছুটা কমছে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কম রয়েছে। নৌপরিবহণ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের সাতটি জাহাজের তুলনায় কম। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি জাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। ম্যাকুয়ারি বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লেও প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। আগস্টের ৩০ তারিখ থেকে সংঘাত পুনরায় শুরুর পর এই সরবরাহ দৈনিক ৭৫ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়ে থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে ডিজেলের বাজারেও। ইউরোপীয় গ্যাসঅয়েল ফিউচার্স, যা ডিজেলের দামের অন্যতম মানদণ্ড, মঙ্গলবার এপ্রিলে পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। পরে রেকর্ড উচ্চতায় লেনদেন শেষ করে। বুধবার অবশ্য দাম কিছুটা কমেছে।
ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উল্লেখযোগ্য সরবরাহ হারিয়েছে। একই সময়ে পূর্ব ইউরোপের চলমান উত্তেজনার কারণে রাশিয়ার কয়েকটি বড় শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং মস্কো জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এপিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল মজুত কমার প্রত্যাশা করেছিলেন।