ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে যোগ দিচ্ছে উত্তর আমেরিকার এক দেশ
অবশেষে আরেক দেশকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সীমারেখায় যোগ দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী জোট ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইইউর বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এ প্রস্তাব দেন। খবর রয়টার্সের
ফন ডার লেয়েন বলেন, ‘আমি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার দরজা খুলতে আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই। অংশীদারত্ব ইউরোপের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তবে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, তারও একটি প্রতিক্রিয়া এটি।’
কানাডা ও ইউরোপের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে একই চোখে দেখি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক থেকে ভূরাজনীতি পর্যন্ত। ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইউরোপ ও কানাডা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে অবশ্য এ ধরনের সহযোগী সদস্য মর্যাদা দেওয়ার কোনো উল্লেখ নেই।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, তার দেশ ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়তে চায়। তবে ইইউর সদস্য হতে চায় না কানাডা। ফন ডার লেয়েন তাকে স্ট্রাসবুর্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নিজ বক্তব্য দেবেন।
ফন ডার লেয়েন জানান, কানাডার সঙ্গে উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করবে ইইউ। তিনি বলেন, ‘আমরা বুদ্ধিমান উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করব। একটি প্রযুক্তি জোট গড়ে তুলব। প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তিগুলোকে একীভূত করব। আর্কটিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রকল্পে পরিণত করব।’
কানাডার সঙ্গে ইইউর এই অংশীদারত্ব অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলেও উল্লেখ করেন ফন ডার লেয়েন। যদিও তার এ বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির ইউরোপ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গত মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর পর দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে।
ইইউর সহযোগী সদস্য ধারণাটি নতুন। এর আগে মে মাসে ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদের পথে এগিয়ে নিতে সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জার্মানি। তবে ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ প্রস্তাব নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।