১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৫

ফের বাড়ল তেলের দাম, জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব 

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা  © সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে আবারো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের প্রধান একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। খবর ইউরোনিউজের

সোমবার সকালে ব্রেন্টের অক্টোবর ও নভেম্বর সরবরাহের চুক্তির দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অক্টোবর সরবরাহের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০২ ডলারে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম গত সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতি ধরে রেখেছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলার পর দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরবের অভ্যন্তর থেকে লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।

পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালির বিকল্প প্রধান সরবরাহপথটিও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই রবিবার প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতিও বদলে গেছে। বর্তমানে জাহাজগুলোকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি নিতে হচ্ছে। তেহরান এ পথ ব্যবহারের জন্য সেবা ফি নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যুক্তরাষ্ট্রও সময়ে সময়ে দেশটির উপকূলে হামলা চালাচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। শুক্রবার দেশটিতে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার। অন্যদিকে, পেট্রলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।

তেলের সরবরাহ সংকটের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে দিন, কিন্তু ডিজেল জ্বালানিতে নয়। কারণ এতে ডিজেলের সংকট তৈরি হচ্ছে।’

চলতি গ্রীষ্মে ইউক্রেন রাশিয়ার ২০টির বেশি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মস্কো ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের হিসাবে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাবই বেশি। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ কমেছে। বিপরীতে হরমুজ প্রণালির সংকটে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল দৈনিক সক্ষমতার তেল শোধনাগারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।