এক রাজ্যে ক্ষমতা কমছে ভারতের, পরিবর্তন আনা হচ্ছে সংবিধানেও
অবশেষে কেন্দ্রশাসিত একটি রাজ্যে ক্ষমতা হারাচ্ছে ভারত। দীর্ঘ চার বছর ধরে বিশেষ মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করে আসা লাদাখকে সংবিধানের ৩৭১ অনুচ্ছেদের আওতায় স্বায়ত্তশাসনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচিত একটি শাসনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারতে এ ধরনের ‘সুই জেনেরিস’ বা স্বতন্ত্র মডেলের শাসনব্যবস্থা হবে এটিই প্রথম।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লাদাখের প্রধান সচিব আশীষ কুন্দ্রা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘লাদাখকে পর্যাপ্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে ভারতীয় সংসদ ৩৭১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করবে। লাদাখকে সাংবিধানিক সুরক্ষা ও নির্বাচিত শাসনব্যবস্থা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
ভারতের সংবিধানের ৩৭১ অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের স্বতন্ত্র আঞ্চলিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় সাময়িক, রূপান্তরকালীন ও বিশেষ ক্ষমতার বিধান রাখা হয়েছে।
আশীষ কুন্দ্রা বলেন, ‘এটি একটি অনন্য মডেল, যার ওপর আমরা কাজ করছি। এটি শাসনব্যবস্থার একটি ‘সুই জেনেরিস’ মডেল। লাদাখে একটি নির্বাচিত সংস্থা থাকবে। তবে এটি বিধানসভাযুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা বিধানসভাযুক্ত রাজ্য হবে না।’
‘সুই জেনেরিস’ বলতে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য তৈরি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোকে বোঝায়। লাতিন এই শব্দটির অর্থ ‘নিজস্ব ধরনের’ বা ‘অনন্য’।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে লাদাখের নেতাদের আলোচনায় থাকা আশীষ কুন্দ্রা জানান, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিভক্ত করে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠন করে। একই সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা হয়।
প্রথম দিকে লাদাখের একাংশ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও পরে আমলাতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে স্থানীয় পরিষদ গঠনের সুযোগ রয়েছে। এসব পরিষদ ভূমি, বন, পানি ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পায়। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।
গত বছর লেহতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অনেকে আহত হন। ওই ঘটনার পর অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আশীষ কুন্দ্রা জানান, যেসব মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।