যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ভারতের নয়াদিল্লিতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিকসের এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে সংলাপ ও সংযমের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। খবর এনডিটিভির
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, দুই নেতা বৈঠক ও আলোচনা করেছেন। পরে তাদের একসঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার পর এটিই ইরান ও ইউএইর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার মধ্যে আরব আমিরাতও রয়েছে।
এর আগে এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় ইউএই সরাসরি অংশ নেয়নি। ওই সময় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলের তার মিত্রদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ইরান ও আরব আমিরাত ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়ে একটি ঘোষণায় সমর্থন দেয়। ভারত একই সঙ্গে ইরান ও আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি এবং আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করে, ‘সকালে সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার এবং যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গারে হামলা চালিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে থাকা শিশুহত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য ও রাডার ব্যবস্থার অবস্থানও সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’
চলমান সংঘাতের কারণে আরব আমিরাত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। দেশটি ব্রিকসের সদস্য হিসেবে ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একই জোটে রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধে তিন দেশ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।