পুতিন-জিনপিংদের আসার খবরে ফের পর্দা দিয়ে বস্তি আড়াল করল ভারত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে যখন বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে, তখন বসন্ত বিহারের কুলি ক্যাম্প বস্তির চারপাশে নীল-সাদা পর্দা টানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের চোখ থেকে বস্তিটি আড়াল করতেই এসব পর্দা টানানো হয়েছে। তবে পর্দা স্থাপনের কারণ হিসেবে বস্তি আড়াল করার বিষয়টি বরাবরের মতো অস্বীকার করে গেছে ভারত সরকার।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। বিশ্বনেতা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের চলাচলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দিল্লীর কুলি ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, নীল-সাদা পর্দাগুলো হঠাৎ করেই স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে জি-২০ সম্মেলনের সময়ও একই ধরনের পর্দা দিয়ে বসতিটি আড়াল করা হয়েছিল। তখন বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, পর্দার কারণে তাদের বসতি বিদেশি অতিথিদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হয়।
কুলি ক্যাম্পের এক নারী বাসিন্দা বলেন, ‘আজ সকালে এগুলো লাগানো হয়েছে। আমাদের কিছু জানানো হয়নি। কেন এগুলো লাগানো হয়েছে, আমরা জানি না। তারা বলছে কোনো নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ আসছেন, তাই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যাতে বাইরে থেকে ময়লা দেখা না যায়। তারা বলে, বস্তির মানুষ নোংরা ছড়ায়।’
তবে এ অভিযোগের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, ‘বস্তির মানুষের চেয়ে বেশি পরিষ্কার কেউ থাকে না। আমাদের গলিগুলো দেখুন, কত পরিষ্কার। কে পরিষ্কার করে? আমরাই করি। যে এখানে থাকে, যার এখানে দরজা আছে, সে নিজের দরজার সামনের জায়গা নিজেই পরিষ্কার করে।’
আরেক বাসিন্দা পর্দা স্থাপনের কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘এটা তো বস্তি, তাই না? এগুলো বস্তিটাকে আড়াল করার জন্যই লাগানো হয়েছে।’
বাসিন্দাদের ধারণা, শীর্ষ নেতা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের চলাচলকে কেন্দ্র করেই পর্দাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। তবে পর্দা দিয়ে কুলি ক্যাম্প আড়াল করাই এর সরকারি উদ্দেশ্য—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের সময়ে ওই সময় বসতিটির চারপাশে বড় আকারের সবুজ পর্দা টানানো হয়েছিল। তখন বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বস্তিটি আড়াল করতেই পর্দা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতির কথাও জানিয়েছিলেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বাসিন্দা বলেন, ‘জি-২০ সম্মেলনের সময়ও এমন হয়েছিল। তখনও এগুলো লাগানো হয়েছিল।’ আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পুলিশ লাঠি দিয়ে আমাদের মারবে এবং তাড়িয়ে দেবে। এর আগে কি এমন হয়েছিল? জি-২০ সম্মেলনের সময়ও এমন হয়েছিল। যখনই এগুলো লাগানো হয়, তখনই আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।’