‘এআই’ গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে নতুন মোড়, আত্মহত্যার দাবি মানছে না পরিবার
এনভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক ইরফান আল-হুসেইনির মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে কর্তৃপক্ষের দেওয়া সিদ্ধান্ত মানতে পারছে না তার পরিবার। মৃত্যুর ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্তের পাশাপাশি তার মরদেহের দাফন বা দাহের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা। এ জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপও চেয়েছে ইরফানের পরিবার।
জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো শহরের নিজ বাড়িতে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আট দিন তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করলেও পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান কর্মক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা করেছিলেন। তখন তার আচরণও স্বাভাবিক ছিল।
ইরফানের বোন বলেন, ‘তাহলে সে ভালোই ছিল। সবাই মনে করেছিল সে ভালো কাজ করেছে। সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল।’
ইরফানের পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা সরাসরি একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দেন। মরদেহের দাফন বা দাহের আগে রাজ্য সরকার যেন এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে, সেই দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিবারের দাবি, ইরানের স্ত্রী বৃহস্পতিবার তার মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থা করেছেন।
ইরফানের বোন সারাহ আল-হুসেইনি বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, মরদেহটি যেকোনো সময় দাহ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা চাই অ্যাটর্নি জেনারেল হস্তক্ষেপ করুন এবং নিশ্চিত করুন যে মরদেহটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়।’
ইরফানের কয়েকজন বন্ধুও পরিবারের সঙ্গে যোগ দিয়ে তার মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে এবং বিস্তারিতভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ইরফানের বন্ধু মোহাম্মদ খন্দকার বলেন, ‘আমরা সত্যভিত্তিক তদন্ত চাই, আমরা ন্যায়বিচার চাই। তার বাবা-মা যেসব প্রশ্ন ও উদ্বেগ জানিয়েছেন, আমরা চাই সেগুলোর প্রতিটির উত্তর নিশ্চিত করা হোক।’
এদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় তাদের ময়নাতদন্তের ফলাফল সম্পর্কে জানতে করা বিভিন্ন প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
অন্যদিকে ইরফানের বিধবা স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার আইনজীবীও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ইরফানের মৃত্যুর তদন্তে অ্যাথেনা পুরোপুরি সহযোগিতা করেছেন। তিনি সান্তা ক্লারা মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। কার্যালয়টি গত ৩১ আগস্ট ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
অ্যাথেনার আইনজীবী ম্যাথিউ ডি. ডেভিস বলেন, ইরফান ছিলেন অ্যাথেনার কাছে ‘সবকিছু’ এবং তিনি দিনের প্রতিটি মুহূর্তে তাকে মিস করেন।
ডেভিস আরও বলেন, অ্যাথেনার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, স্বামীর মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব দাফন করতে হয়। ইরফানের মৃত্যুর ৩০ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় বুধবার ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে এবং এরপর তাকে দাফন করা হবে।
এ বিষয়ে সান্তা ক্লারা কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টের এক বিচারকের দেওয়া একটি আদেশও তিনি প্রকাশ করেছেন। ওই আদেশে দেখা যায়, ইরফানের বাবা-মা ও বোনেরা তার মরদেহ দাফন ঠেকানোর যে আবেদন করেছিলেন, আদালত তা নাকচ করে দিয়েছেন।
ডেভিস বলেন, ইরফানের মরদেহ দাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
এক বিবৃতিতে ডেভিস লিখেছেন, ‘অ্যাথেনা বুঝতে পারেন যে ইরফানের পরিবারও শোকাহত এবং তার আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যু নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরফানের মরদেহ সংরক্ষণ রাখার জন্য তার বাবা-মা যে অনুরোধ করেছিলেন, তাতে তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অ্যাথেনাও মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়কে ইরফানের মৃত্যুর পুরো তদন্ত নথি সংরক্ষণ করার অনুরোধের সঙ্গে একমত। এর মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, বিষক্রিয়া পরীক্ষার ফলাফল, ছবি, এক্স-রে বা অন্যান্য রেডিওগ্রাফিক ছবি, মরদেহের চিত্র, তদন্তসংক্রান্ত নথি, সংরক্ষিত নমুনা, ভেজা টিস্যু, প্যারাফিন ব্লক এবং হিস্টোলজি স্লাইড রয়েছে।
অ্যাথেনা এসব নথি ও নমুনা একজন স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করাতেও কোনো আপত্তি করেননি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।