রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক নাগরিককে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে বা নাগরিকদের অর্থ দেওয়ার আইনি ভিত্তি কী, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন... এটিকে বলা হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার এই প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিনিময়ে অর্থ দেওয়া কিংবা অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব নিষিদ্ধ। আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে ‘ভোট দেওয়া বা ভোট না দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দেওয়া বা দেওয়ার প্রস্তাব’ দেওয়া যাবে না।
এদিকে ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্তও জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগকে খাটো করে দেখিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে একটি প্রশ্ন করতে দিন: ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে? অবশ্যই না।’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে রেকর্ড পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, মার্কিন ভোটারদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। একের পর এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করছেন না।
এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়েও কথা বলেন। এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে কয়েকটি আইনি চ্যালেঞ্জের পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এর নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, বলরুম নির্মাণে কোনো করের অর্থ খরচ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বিনা খরচে একটি বলরুম দিচ্ছি।’
তবে দ্য গার্ডিয়ানের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন গোপনে সিক্রেট সার্ভিসের জন্য বরাদ্দ করা ৩৫২ মিলিয়ন ডলার বলরুম নির্মাণ প্রকল্পে স্থানান্তর করেছে। অথচ ট্রাম্প বারবার বলে আসছিলেন, ব্যক্তিগত অনুদানের অর্থেই এই নির্মাণকাজ হবে।
এই অর্থ ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ থেকে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের গ্রীষ্মে রিপাবলিকানদের একক সমর্থনে কংগ্রেসে আইনটি পাস হয়। এটি ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর আইন।
আইনটিতে বলা হয়েছে, এই অর্থ শুধু সিক্রেট সার্ভিসের কর্মী, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা যাবে। ভবন নির্মাণের কাজে এই অর্থ ব্যবহারের অনুমতি আইনে নেই।
এদিকে গত জুনে কংগ্রেস ‘ইস্ট উইং মডার্নাইজেশন প্রজেক্ট’-এর জন্য ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, রিপাবলিকানরা যদি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে প্রত্যেক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ তিনি কোথা থেকে দেবেন এবং প্রতিশ্রুতিটি বাস্তবায়ন করা আইনগতভাবে কীভাবে সম্ভব হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সংবাদসূত্রঃ গার্ডিয়ান