০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৬

ফের ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম 

তেলের ডিপো  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা এবং সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর বিবিসির

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজে সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দেশটির অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ওমান উপসাগরে আইআরজিসির ব্যবহৃত চারটি ও খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এম/টি রিসকো নামের একটি জাহাজ ডুবে যায়। এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি প্রণালিতে মার্কিন নৌজাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে আক্রমণের দাবি করেছে। 

অন্যদিকে, সৌদি নৌপথ ও বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলা এবং ইয়েমেনের আল-হাজম কারাগারে হামলায় ১১ জন নিহতের অভিযোগ এনে হুথিরা সৌদির আবহা, খামিস মুসাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, যার ফলে অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় রিয়াদ।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ৬ মাস পার করে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা সংঘাতের শুরুর সময়ের ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের তেলকে আকাশচুম্বী করে বিশ্বজুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতি ঘটিয়েছে। 

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন নৌজাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ইরান নিয়মিত তাদের ট্যাংকার হারাচ্ছে এবং এর কঠোর জবাব অব্যাহত থাকবে।