পড়াশোনার মাঝপথেই সব আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীকে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ
পাকিস্তানে অধ্যয়নরত আফগান মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে নতুন আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে তাদের স্থানান্তরও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে। খবর নিউজ১৮-র
দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির মধ্যেই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সীমান্তে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ফলে পাকিস্তানে বসবাসরত ও অধ্যয়নরত আফগান নাগরিকদের নিয়েও ইসলামাবাদ একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পিএমডিসির এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকেই মেডিকেল বা ডেন্টাল কোর্সের মাঝপথে রয়েছেন। ফলে কয়েক বছর ধরে চলা পড়াশোনা শেষ করার আগেই তাদের দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।
পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য। পিএমডিসি জানিয়েছে, জাতীয় নীতিগত নির্দেশনা এবং কাউন্সিলের ৩০ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে পিএমডিসি জানায়, পাকিস্তানে ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া আফগান নাগরিকদের দেশে ফিরে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং তাদের চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আফগান শিক্ষার্থীদের তথ্য পিএমডিসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
পিএমডিসির নির্দেশনায় কোর্সের কোন পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন, তার কোনো ছাড় রাখা হয়নি। অর্থাৎ দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ বা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছেন। লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেইএমইউ) এমন ২২ জন আফগান নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জন এমবিবিএস পড়ছেন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের ছয়জন শেষ বর্ষে পড়ছেন।
এছাড়া যারা ইতোমধ্যে কোর্স সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্নাতক শেষ হওয়ার তথ্য এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টিও নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিধি শুধু নতুন ভর্তি বা চলমান শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে পিএমডিসি আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত ডিগ্রির স্বীকৃতিও বন্ধ করেছে। এর ফলে আফগানিস্তান থেকে মেডিকেল বা ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জন করা ব্যক্তিরা পাকিস্তানে নিবন্ধন, লাইসেন্স বা পেশাগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছেন।
পিএমডিসির দাবি, আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই। অর্থাৎ পাকিস্তানে পড়তে আগ্রহী আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভর্তি বন্ধ, বর্তমানে অধ্যয়নরতদের দেশে ফেরার নির্দেশ এবং আফগানিস্তানের ডিগ্রির স্বীকৃতি বন্ধ—এই তিনটি সিদ্ধান্ত একসঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
তবে আফগান মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশের ক্ষেত্রে পিএমডিসি নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। তাদের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় শুধু ‘জাতীয় নীতিগত নির্দেশনা’ এবং ৩০ জুলাইয়ের কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমানের সিদ্ধান্তটি কার্যকর থাকবে। ফলে পাকিস্তানে বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীরা কীভাবে এবং কোথায় তাদের অসমাপ্ত শিক্ষা শেষ করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।