ইরানের মানচিত্রে নিজের মুখ, বিস্ফোরণে ছারখার খার্গ, এক ঘণ্টায় ৭ পোস্ট ট্রাম্পের
ইরানকে ঘিরে নিজের অবস্থান ও দেশটির ওপর মার্কিন চাপের চিত্র তুলে ধরতে এক ঘণ্টার মধ্যেই পরপর সাতটি পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো পোস্টে ইরানের মানচিত্রের ওপর নিজের মুখ বসিয়েছেন, কোনো পোস্টে দেখিয়েছেন হরমুজ প্রণালীর তেল পরিবহনের হিসাব। আবার একটি এআই-তৈরি ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে বিস্ফোরণে ছারখার হতে দেখা গেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এসব পোস্ট এসেছে। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথাও বলেছিলেন। একই সময়ে তেহরান স্বীকার করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তবে এই চাপের কারণে ইরান তার অবস্থান বদলাবে না বলেও জানিয়েছে।
প্রথম পোস্ট
প্রথম পোস্টে ট্রাম্প ইরানের মানচিত্রের ওপর নিজের মুখ বসানো একটি ছবি প্রকাশ করেন। প্রতীকী এই ছবির মাধ্যমে ইরানের ওপর নিজের প্রভাব ও মার্কিন চাপের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। কয়েক দিন আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দ্বিতীয় পোস্ট
দ্বিতীয় পোস্টে হরমুজ প্রণালীর তেল পরিবহনের পরিমাণ তুলে ধরেন ট্রাম্প। একটি গ্রাফিকে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। সংঘাত শুরুর আগে এই পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল। তবে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে বেসরকারি বিশ্লেষকদের হিসাবের কিছু পার্থক্য রয়েছে।
তৃতীয় পোস্ট
এরপর ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির চিত্র তুলে ধরেন ট্রাম্প। তাঁর পোস্ট করা গ্রাফিকে দেখানো হয়, ২০২৫ সালে ইরান প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করলেও ২০২৬ সালে তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মার্কিন নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণেই ইরানের তেল রপ্তানি কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের তেল রপ্তানি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। খার্গ দ্বীপ দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। ফলে তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার অর্থনৈতিক প্রভাবও ইরানের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।
চতুর্থ ও পঞ্চম পোস্ট
ইরানের মুদ্রা রিয়াল নিয়েও দুটি গ্রাফিক প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দ্রুত দরপতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাঁর পোস্ট করা তথ্য অনুযায়ী, একসময় এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ রিয়াল থাকলেও বর্তমানে তা ২২ লাখ ৭০ হাজার রিয়ালের বেশি হয়েছে।
আরেকটি গ্রাফিকে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য কীভাবে দ্রুত কমেছে, তা দেখানো হয়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইরানের মুদ্রার এই পতন হয়েছে।
ষষ্ঠ পোস্ট
এরপর পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে আরও নাটকীয় একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ‘বাই বাই, খার্গ’ লেখা ওই ছবিতে একটি যুদ্ধবিমানকে খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। চারপাশে আগুন ও বিস্ফোরণের দৃশ্যও রয়েছে।
তবে ছবিটি বাস্তব হামলার ছবি নয়; এটি এআই দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী ছবি। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে হামলার এমন দৃশ্য দেখিয়ে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য মার্কিন চাপের বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগেও খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের এআই-তৈরি ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সপ্তম পোস্ট
সর্বশেষ পোস্টে ইরানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। এক ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া সাতটি পোস্টে মোটামুটি একই বার্তা তুলে ধরেন তিনি—ইরানের তেল রপ্তানি কমছে, রিয়ালের মূল্য দ্রুত পড়ছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হুমকির মুখে এবং হরমুজ প্রণালীও সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও ইরানের ওপর বাড়ছে—ট্রাম্পের ধারাবাহিক পোস্টগুলোর মূল বক্তব্য ছিল সেটিই।