দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মুহূর্তেই ধসে পড়ল পাঁচতলা মেসবাড়ি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬
ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা মেসবাড়ি ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক রয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে মূলত শিক্ষার্থী ও অন্যদের জন্য পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে থাকার ব্যবস্থা ছিল। ভবনটি প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র।
ঘটনার সময় ভবনের বেসমেন্টে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে সেখানে পানি জমে ছিল বলেও জানা গেছে। এ অবস্থায় বেসমেন্টে কাজ চলার সময় ভবনটি ধসে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নির্মাণকাজ, ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৃষ্টির পানির বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভবন ধসের পর দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), চিকিৎসাকর্মীসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল জীবিতদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়ায়।
উদ্ধার করা ১১ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দিল্লির এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারেও আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভবনটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় সেখানে অনেক শিক্ষার্থী থাকতেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের কয়েকজন কেরালা, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন ও ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির অনুমোদন, অতিরিক্ত নির্মাণ এবং পেইং গেস্ট হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দিল্লি সরকার এরই মধ্যে ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘কাউকে রেয়াত হবে না।’ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
এদিকে, ভবন ধসের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠন শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভও হয়েছে।
ঘটনার পর আশপাশের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে নির্মিত অতিরিক্ত তলাবিশিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এমসিডি।
এদিকে, ধসে পড়া ভবনটির পাশের একটি ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবন ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হবে।