০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬

বদলে যাচ্ছে বিশ্ব মানচিত্র, অনুমোদন দিল জাতিসংঘ

এতোদিন ধরে দেখানো মানচিত্রে বড় পরিবর্তস আসতে যাচ্ছে  © সংগৃহীত

ষোড়শ শতাব্দী থেকে ব্যবহৃত সনাতন ‘মার্কেটর’ প্রজেকশনের বিশ্ব মানচিত্র থেকে সরে এসে বিশ্বের দেশগুলোর সঠিক আয়তন প্রতিফলিত করে এমন মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে রায় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকাকে মানচিত্রে ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে উপস্থাপনের উপনিবেশিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে টোগোর তোলা ‘করেক্টিং দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি শুক্রবার ১৬৪-১ ভোটে পাস হয়। খবর রয়টার্সের

টোগো পরিচালিত এই প্রস্তাবটিতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামক মানচিত্র প্রজেকশনকে প্রচারের কথা বলা হয়েছে, যা বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশ ও দেশের আসল আয়তন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের কাছের ভূখণ্ডগুলোকে বড় করে দেখানো হয়; যার ফলে আফ্রিকার চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ ছোট হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান আকারের বলে মনে হয়। জাতিসংঘের এই প্রস্তাবটি আইনিভাবে বাধ্যবাধকতামূলক নয় এবং সামুদ্রিক বা আকাশপথে নৌ-চলাচলের জন্য মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহারকে কোনোভাবে চ্যালেঞ্জ করে না। 

টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে ভোটদানের আগে বলেন, ‘একটি নায্যতামুলক বিশ্বের সূচনা হয় একটি ন্যায্য মানচিত্রের মধ্য দিয়ে।’ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভোট দেয় এবং ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন যে এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির আসল সমস্যাগুলো থেকে নজর সরিয়ে একটি ‘ভাবাদর্শিক এজেন্ডা’ প্রচার করছে।

টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে আরও জানান, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই তারা নিজেদের দেশের পাঠ্যপুস্তকের ভূগোল সামগ্রীতে পরিবর্তন এনে বিশ্ববাসীকে নতুন মানচিত্র গ্রহণের উদাহরণ দেখাবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই প্রজেকশনের প্রসার ঘটাতে আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুগল ম্যাপসের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বৈঠকে বসবে টোগো। এই উদ্যোগকে কোনো সভ্যতার ওপর আক্রমণ না আখ্যা দিয়ে ডুসে জানান, বৈশ্বিক মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য উপনিবেশিক ঐতিহ্যের এই বিকৃতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।