০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৪

হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী   © টিডিসি ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা পাঠানোর জন্য তারা এখন ‘চূড়ান্ত ও বাস্তব প্রস্তুতি’ নিচ্ছে। তবে মোতায়েনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

প্রস্তাবিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে বিশেষজ্ঞ একটি দল এবং একটি লজিস্টিক সহায়তা জাহাজ রাখার পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এর আগে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করবে তারা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতি এখন আরও এগিয়ে নিয়েছে সিউল।

এসবিএসকে এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী কোথায় ঘাঁটি স্থাপন করবে এবং কোন কোন বন্দর ব্যবহার করবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠানোর আগে দক্ষিণ কোরিয়াকে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং জাতীয় পরিষদের সম্মতি রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসরও কমিয়ে দেয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এ কারণে হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য নৌবাহিনী মোতায়েনকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু