০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিল আর্জেন্টিনা

যুক্তরাজ্যকে নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট  © টিডিসি সম্পাদিত

বিতর্কিত ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। ঐতিহাসিক ও আইনি যুক্তিতে ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড দাবি করে দেশটির জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা বিল পাসের ঘোষণা দেন তিনি। খবর বিবিসির

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মিলেই বলেন, ফকল্যান্ডস উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরে অবস্থিত ‘সি লায়ন’ খনিতে যুক্তরাজ্যের রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলের নাভিতাস পেট্রোলিয়াম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের তেল অন্বেষণ কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে, যেখানে আনুমানিক ১৭০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রযেছে। 

এই প্রকল্পকে আর্জেন্টিনার জন্য ‘বিদ্যমান ও সরাসরি হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে মিলেই জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় আর্জেন্টিনাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তিয়েরা দেল ফুয়েগোতে নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এই কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্য সামরিক বাজেট না বাড়ালে ফকল্যান্ডস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা পর্যালোচনার বার্তা দিয়েছেন, যা আর্জেন্টিনাকে উৎসাহিত করেছে। এর জবাবে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ফকল্যান্ডসের অধিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। 

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বজায় রয়েছে। সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপেও এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে উত্তেজনার বারুদ চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে খোদ মাঠেই ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ’ নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন মেসিরা। যেটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।