০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৭

উৎপাদন জটিলতায় বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানি বাতিলের মেয়াদ বাড়াল কাতার

এলএনজি ট্যাংকার  © সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বৈশ্বিক ক্রেতাদের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা চুক্তিগত দায়মুক্তির সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবসায়ী সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে কাতারএনার্জি বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত এলএনজি কার্গো বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

ইউরোপের ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপে হেঁটেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের কার্গো বাতিল ও ফোর্স মেজরের সময়সীমা আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে ২৮ জুলাই পর্যন্ত এডিসনের প্রায় ৩০০ কোটি ঘনমিটার সমপরিমাণ ২৪টি এলএনজি কার্গো এই বাতিলের তালিকায় পড়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিকল্প কৌশলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এলএনজির ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজিবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে এবং জাহাজে কার্গো স্থানান্তরের মতো প্রযুক্তিগত বিকল্প এলএনজির জন্য প্রযোজ্য নয়।

ইরান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বিপর্যস্ত হওয়ায় বিগত ছয় মাসে কাতার প্রায় ২৪ বিলিয়ন (২,৪০০ কোটি) ডলারের বিক্রয়মূল্য হারিয়েছে। 

ডেটা ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান ‘আইসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ে যেখানে কাতার ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পেরেছিল, সেখানে চলতি বছরের এই সময়ে মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে—যা রপ্তানিতে প্রায় ৯৬ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।

দীর্ঘস্থায়ী এই হরমুজ সংকটের ফলে একদিকে যেমন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতারের রাজস্বে বড় ধস নেমেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা তীব্রতর হচ্ছে।