২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৮

অপহরণের পর গায়ে আগুন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন নারী ইনফ্লুয়েন্সার

পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর  © সংগৃহীত

অপহরণের পর মারধর করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেলেন পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর। ২৮ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে (পিজিআইএমইআর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে।

শনিবার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ও ১৪০(১) ধারাসহ কয়েকটি ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনার কারণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মনজিৎকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে অপহরণ করা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।

মনজিতের মায়ের অভিযোগ, গত ৩ জুলাই তার পরিচিত দুই ব্যক্তি শুভি ও পিন্ডা তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪-এর একটি মদের দোকানের কাছে আসতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তারা মনজিৎকে অপহরণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মনজিৎকে পাঞ্জাবের মোরিন্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধরের পর একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় মনজিতের এক বন্ধু সেখানে পৌঁছে একটি কম্বল দিয়ে আগুন নেভান। পরে তাকে মোরিন্দার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মোহালির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআরে ভর্তি করা হয়।

মনজিতের মা আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট তার মেয়ে জ্ঞান ফিরে পান। এরপর তিনি মোহালির খরার পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে মনজিতের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। তবে তার দাবি, পুলিশ কোনো দল পাঠায়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, মনজিতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

চণ্ডীগড় পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) গুরজিত কৌর বলেন, ‘মনজিৎ কৌরকে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

ইনস্টাগ্রামে মনজিৎ কৌরের প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার অনুসারী ছিল। পাঞ্জাবি ও হরিয়ানভি গানের সঙ্গে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন তিনি। হামলার পর প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হলো। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।