২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৮

গাছ আঁকড়েই ২ দিন! অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন নেপালের ৮ বছর বয়সী বালক

দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর মা ছেলের সাক্ষাৎ   © সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চারদিকে যখন স্বজন হারানোর কান্না, তখন দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর মায়ের কোলে ফিরেছে আট বছরের শিশু জোয়াল ঘালে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রবল স্রোত থেকে বাঁচতে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে দুই দিন কাটায় সে। পরে ভাঙা পা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডু পাঠানো হয়।

গত বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে একটি স্কুলসহ পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওই সময় স্কুলে থাকা জোয়াল স্রোত থেকে বাঁচতে দৌড়ে বনের দিকে যায় এবং একটি গাছে উঠে পড়ে। সেখানেই গাছ আঁকড়ে ধরে সে দুই দিন টিকে থাকে।

বন্যার পরদিন বৃহস্পতিবার উদ্ধারকর্মীরা জোয়ালকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তার পা ভেঙে গিয়েছিল এবং মুখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ২৮ বছর বয়সী মা মাট্টি মায়া তামাং এক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আরেক আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। একের পর এক তালিকায় দুই সন্তানের নাম না পেয়ে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর সন্তানরা আর বেঁচে নেই। কান্নাকাটি করা ছাড়া তখন তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।

এর মধ্যেই তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে জীবিত খুঁজে পান। পরে একটি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে জানতে পারেন, বড় ছেলে জোয়ালও জীবিত আছে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।

খবরটি পাওয়ার পর মাট্টি মায়া কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সেখানে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। অবশেষে শুক্রবার একটি হাসপাতালে ছেলের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। দীর্ঘ দুই দিনের উৎকণ্ঠার পর মা-ছেলের এই পুনর্মিলনের দৃশ্য আবেগঘন হয়ে ওঠে।

বুধবার সকালে শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় মাট্টি মায়া বাড়ির কাজ করছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে জানতে পারেন, ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহ ধসে এলাকায় ভয়াবহ স্রোত নেমে এসেছে।

স্কুলটি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরে ছিল। সেখানে পৌঁছে মাট্টি মায়া দেখেন, স্কুলের কোনো চিহ্ন নেই। বাজারও ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু প্রবল স্রোত, পাথর ও কাদা।

উদ্ধারকর্মীরা জোয়ালকে হাসপাতালে নিতে চাইলে প্রথমে সে রাজি হচ্ছিল না। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তার হাতে ১০ টাকার দুটি নোট দেন। শিশুটি সেই টাকা শক্ত করে ধরে রাখে।

জোয়াল জানায়, পানির প্রবল স্রোত ও ধস নেমে আসার পর চারদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তবে সে ভয় পায়নি।

এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৫৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার কাঠমান্ডুর হাসপাতালে ছেলের পাশে দাঁড়ান মাট্টি মায়া। জাপানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করা জোয়ালের বাবাও খবর পেয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যেও ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে মাট্টি মায়ার মনে। ছেলের দুরন্ত স্বভাবের কথা মনে করে তিনি বলেন, 'ও খুব দুষ্টু একটা ছেলে, ওর হাড় ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।'