২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬, এখনো নিখোঁজ ২৪২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা  © সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ২ হাজার ৪২৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার তিন দিন পরও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির সকাল ১০টায় প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার পর ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ১০১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ২৭ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

তল্লাশি, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে মোট ১৫ হাজার ২২৪ জন নিরাপত্তাকর্মীকে মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পুলিশ ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৩৩টি, নাওয়ালপরাসি ইস্টে ১৫৮টি, গোরখায় ৪৮টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুওয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রাসুওয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয়ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়ায়।

বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে এখনো তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে বন্যায় আটকে পড়া মানুষদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। বন্যার ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থা সচল করে ত্রাণ কার্যক্রম সহজ করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুওয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে ভয়াবহ এই বন্যা আঘাত হানে। প্রবল পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায়। বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও পথচারী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়েন।

উদ্ধারকারী দলগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।