৮৯ বছরে না ফেরার দেশে নরওয়ের রাজা হারাল্ড
নরওয়ের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় ও সংস্কারবাদী রাজা হারাল্ড ভি (৮৯) মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ০৬:৩৫ মিনিটে দুর্লভ রক্তজনিত অসুস্থতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসলোর জাতীয় হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে রাজপ্রাসাদের ছাদে রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং গভীর শোক প্রকাশ করছে পুরো দেশ।
চতুর্দশ শতাব্দীর পর থেকে জন্ম নেওয়া নরওয়ের প্রথম রাজা ছিলেন হারাল্ড। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শাসনকালে তিনি সাধারণ মানুষের অতি পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য ‘জনগণের রাজা’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রচলিত রাজকীয় প্রথা ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের মেয়েকে (বর্তমান রানী সোনিয়া) বিয়ে করার মাধ্যমে নরওয়েজিয়ান রাজতন্ত্রকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
নরওয়ের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে তিনি পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০১১ সালে অসলো ও উতোয়া দ্বীপে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৭৭ জনের প্রাণহানির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে তিনি জনগণকে ভয় অতিক্রম করে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা নরওয়েজিয়ানদের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে।
রাজা হারাল্ড ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শৈশবে নাৎসি বাহিনীর আক্রমণের মুখে পরিবারসহ তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে শিক্ষাজীবন ও সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে ১৯৯১ সালে বাবা রাজা ওলাফ ভি-এর মৃত্যুর পর তিনি নরওয়ের সিংহাসনে বসেন।
মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী রানী সোনিয়া, কন্যা রাজকুমারী মার্থা লুইস, পুত্র নতুন রাজা হাকোন এবং ছয়জন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।