২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৬

এক শর্তে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে রাজি দক্ষিণ কোরিয়া 

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংলাপে বসার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর কূটনৈতিক উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়া যেন সিউলের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো অবক্ষয় না ঘটায় এবং সম্ভাব্য সমঝোতার টেবিল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যেন কোনোভাবে বাদ না পড়ে বা কোণঠাসা না হয়, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক বার্তা প্রদান করেছে দেশটি। খবর রয়টার্সের

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিউলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সং-লাক জানান, ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ যাতে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হলে তা যেন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কার্যকর নিরসন এবং কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনে, সে বিষয়ে আমেরিকার সাথে নিবিড় নীতিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চলতি আগস্ট মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত বড় আকারের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপ সামরিক সহায়তা না দেওয়াকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প।

তবে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সংলাপের উদ্যোগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রধান কর্মপ্রধান (জেসিএস) জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর নতুন একটি বহুমাত্রিক যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে।

নিরাপত্তা পর্যালোচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কুপাং-এর ওপর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, দুই দেশের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যুদ্ধের সময় সামরিক কমান্ড বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিউল।