২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮

কেন তারেক রহমানের সফর পেতে মরিয়া ভারত?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে বেশ উৎসাহী দেখা গেছে ভারতকে। এরই মাঝে দেশটির রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে ভুলবশত পাঠানো একটি ই-মেইল হঠাৎ করেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে ঢাকা ও নয়া দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক। ইমেইলটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনের নিয়মিত ক্যাডেটদের ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান স্থগিতের বার্তা ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইমেইলটি প্রত্যাহার করা হলেও, এর মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জোর তৎপরতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এএএম সালেহ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সফরের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহুাম্মদ ইউনুনের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে । তার কারণও আছে অবশ্য, বা্ংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানকে কোনো দেশ আশ্রয় না দিলেও দিল্লি তাকে আশ্রয় দিয়েছে, পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে দেশে নিজেদের পছন্দের সরকার বসাতে সাউথ ব্লকের নীরব সমর্থন-সবমিলিয়ে বাংলাদেশ চায়নি ফের সম্পর্ক জোড়া লাগাতে। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিল্লী আশা করেছিল সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হবে। তবে তারেক রহমানের সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে বারবার আহ্বান জানিয়েছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ফলপ্রসূ করতে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পূর্বে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া জরুরি। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য ঢাকায় নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা সফর নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্কের জোড়া লাগানোর চেষ্টা থাকলেও নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার পলায়নের পর পাকিস্তানের সাথে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন আলোচনা। এছাড়া চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে (Mecca Pact) অন্য কোনো ইসলামি দেশ বা বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। 

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এমন উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হতে পারে, তবে বিশ্লেষকেরা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করে বাংলাদেশকে সতর্ক পদক্ষেপে এগোতে পরামর্শ দিচ্ছেন। 

আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলন কিংবা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসা উচিত বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।