বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সব ধরনের মার্কিন ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; স্থগিতাদেশটি মূলত অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের কারণে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, তারা ই-মেইলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনঃনির্ধারণের খবর পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সময়সূচি বা বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। তবে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যারা ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের মূল্যায়ন যেন ব্যাপকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় দপ্তর।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হয়েছে। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মতামত এবং ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ও কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপের অন্যতম কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
আরও দেখুন: নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু, অন্তত ২৬ পুলিশ সদস্য নিখোঁজ
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দেন। বিচারকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযানকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের নীতিতে বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের মতো পদক্ষেপও রয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।