২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৬

সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে নতুন একটি দ্বীপ যুক্ত করেছে চীন

ইয়াগং দ্বীপ  © সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত পারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টেলোপ রিফের কাছে নতুন একটি দ্বীপে স্থাপনা নির্মাণের চিত্র পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের নির্মাণকাজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলেও এটি সম্ভাব্য রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

নতুন স্থাপনাগুলো ইয়াগং আইল্যান্ডে দেখা গেছে। দ্বীপটি অ্যান্টেলোপ রিফের প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এবং আয়তনে অ্যান্টেলোপের তুলনায় অনেক ছোট। ভ্যান্টর নামের একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গত ১৭ আগস্টের ছবি প্রকাশ করেছে। তাদের অন্যান্য ছবিতে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিলের দিকে সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

ভ্যান্টরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইয়াগং রিফে নির্মিত কয়েকটি স্থাপনার সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য এলাকায় দেখা সামরিক রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মিল রয়েছে। এগুলো অ্যান্টেলোপ রিফের সম্ভাব্য সামরিক স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।’

তবে স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার এখনো নিশ্চিত নয়। ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষক ড্যামিয়েন সাইমন বলেন, ‘সেখানে রাডার স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহও বলেন, ‘এটি ছোট পরিসরের একটি স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হতে পারে। তবে তার ধারণা, সম্ভাব্যতার বিচারে এটি একটি রাডার স্টেশন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

এর আগে জানা যায়, অ্যান্টেলোপ রিফে চীন নির্মাণকাজের প্রথম ধাপ শেষ করেছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে সেখানে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৃত্রিম দ্বীপ দেখা যায়। এর উপকূলের একটি সোজা অংশের দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটারের বেশি, যা কোনো সম্ভাব্য রানওয়ের অংশ হতে পারে বলে কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের এই নির্মাণকাজ অঞ্চলটিকে ক্রমবর্ধমান সামরিকায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত হলে এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি। চীনও অ্যান্টেলোপ রিফে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা স্বীকার করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, অ্যান্টেলোপে আবহাওয়া পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরও দেখুন: সাবেক এমপি বদি ও ৩ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

চীন ১৯৭৪ সালে সাবেক দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর কাছ থেকে পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয়। ভিয়েতনাম পুরো দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আরও দক্ষিণে অবস্থিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের ঘাঁটির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে।

স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও আশপাশের জলসীমার ওপর ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইও পুরোপুরি বা আংশিকভাবে দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক অ্যাটাশেদের মতে, এসব স্থাপনা নির্মাণ দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার অংশ হতে পারে। তথ্যসূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এনডিটিভি।