ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল—দাবি নেতানিয়াহুর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তাঁর দুই ছেলের মধ্যে কাকে লক্ষ্য করে কথিত ওই হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই দাবি করেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের বিশিষ্ট সাংবাদিক আমিত সেগাল তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে লেখেন, কথিত ওই হত্যাচেষ্টার বিষয়টি কয়েক মাস ধরেই জানা ছিল। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
একটি আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ইরানের ওই কথিত হামলার বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
আইজেনকোটের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়।
তিনি বলেন, ‘এটি না থাকলে ইরানিরা সফল হবে।’
তবে নেতানিয়াহুর দুই ছেলের মধ্যে কাকে ইরান লক্ষ্য করেছিল, তা এখনো জানা যায়নি।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর বয়স ৩৫ বছর। ২০২৪ সালের শুরু থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে তিনি শিন বেতের নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইয়ারের অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে করদাতাদের অর্থে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে যে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু বাসিন্দাও তাঁর সেখানে অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের শত্রুরা তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
নেতানিয়াহুর অন্য ছেলে আভনার তুলনামূলকভাবে জনসমক্ষে কম আসেন। তিনি বর্তমানে ইসরায়েলেই বসবাস করছেন।
নেতানিয়াহুর একমাত্র মেয়ে নোয়া নেতানিয়াহু-রথ। তাঁর মা মিরিয়াম ওয়াইজম্যান, যিনি নেতানিয়াহুর প্রথম স্ত্রী। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, নোয়া তাঁর স্বামী ড্যানিয়েল রথ ও সন্তানদের নিয়ে জেরুজালেমে ব্যক্তিগত ও অতি-ধর্মীয় জীবনযাপন করেন।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বর্তমানে বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও থমকে আছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহন এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।