২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১

নার্সিং কলেজে স্মার্টফোন হারানো নিয়ে ছাত্রীদের সংঘর্ষ, জড়ালেন স্থানীয়রাও

দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা  © সংগৃহীত

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডার একটি নার্সিং কলেজে মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ ঘটনায় উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিলেন। তাদের অধিকাংশই মণিপুরের ছাত্রী। স্থানীয় তেলুগুভাষী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বচসা থেকে পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। খবর এই সময় অনলাইনের 

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে কাকিনাডার এস কে কলেজ অব নার্সিংয়ের হোস্টেলে। জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট উত্তর-পূর্ব ভারতের এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা উত্তেজনা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। উত্তেজনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী হোস্টেলের ভেতরে আশ্রয় নেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কাকিনাডার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার হোস্টেলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষার্থীদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অন্য রাজ্যের ৩১ শিক্ষার্থীকে তাদের সম্মতিতে পৃথক একটি হোস্টেলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর দপ্তরেরও নজরে আসে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের পর জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার পর মণিপুরের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, আলাদা থাকার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পাওয়ার পর তারা নিরাপদে রয়েছেন।

মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অন্য একটি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাতে তাদের নিরাপত্তার জন্য একজন নারী সাব-ইনস্পেক্টরকে সেখানে রাখা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপের জন্য নাইডুকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষার্থীরাও প্রশাসনের ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট। তবে একটি মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে কীভাবে দুই পক্ষের মধ্যে এতটা উত্তেজনা তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।