পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে ৭ বছরের শিশুকে একা ছাড়লেন বাবা, অতঃপর....
মাউন্ট ফুজিতে পরিবার নিয়ে হাইকিংয়ে গিয়েছিলেন একটি জাপানি পরিবার। খাড়া পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে একপর্যায়ে ৭ বছর বয়সি সন্তান ক্লান্ত বোধ করায় তাকে সেখানেই একা ছেড়ে যান তার বাবা। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। ঘটনা জাপানি পুলিশের কাঠগড়ায় গিয়ে থামলে সেই বাবাকে তীব্র পুলিশি ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটারেরও বেশি (৬,৫০০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত ফুজিওনোরিয়া ট্রেইলের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে কাঠের একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখেন পাহাড়ের এক কর্মী। পরবর্তীতে তিনি শিশুটিকে স্টেশনে আশ্রয় দিয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পাহাড়ে ওঠার সময় শিশুটি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং আর হাঁটতে পারছে না বলে তার বাবাকে জানায়। এরপর জাপানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর নাগোয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি তার ছোট ছেলেকে কিছু স্ন্যাকস ও কোমল পানীয় দিয়ে বেঞ্চে অপেক্ষা করতে বলেন।
ছেলেকে ফেলে রেখেই তিনি তার বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচ ঘণ্টার পথ পাড়ি দেওয়া শুরু করেন। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় চূড়া থেকে আবার ছোট ছেলের কাছে ফিরতে তার কমপক্ষে আট ঘণ্টা সময় লাগত।
পুলিশ যখন যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়, ততক্ষণে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে ফেলে যাওয়া স্থান থেকে আরও তিন ঘণ্টার পথ পেরিয়ে অষ্টম স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে অবিলম্বে নিচে নেমে আসার নির্দেশ দেয় এবং ছেলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর একজন অভিভাবক হিসেবে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ওপর একটি ছোট শিশুকে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখার জন্য তাকে কঠোর ভর্ৎসনা করা হয়।
জাপান টুডের এক প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একসাথে পাহাড়ে ওঠার পরিকল্পনা বাদ দিতে হলেও কোনো অবস্থাতেই একটি ছোট শিশুকে এভাবে একা পেছনে ফেলে রেখে যাওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ফুজি পর্বতের আবহাওয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও অনিয়মিত। গ্রীষ্মকালেও এ পাহাড়ে হাইকারদের জন্য 'হাইপোথার্মিয়া' বা শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিজের কৃতকর্মের জন্য পুলিশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ওই বাবা বলেন, ‘আমি চরম ভুল এবং তাড়াহুড়ো করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, যার জন্য আমি গভীর অনুতপ্ত।’
এ ঘটনার পর ফুজি পর্বতে আরোহণের পরিকল্পনাকারী যেকোনো দলকে তাদের সঙ্গে থাকা প্রতিটি সদস্যের শারীরিক সক্ষমতা ও স্ট্যামিনা বিবেচনা করে যাত্রার গতি নির্ধারণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।