২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা   © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। 

ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার এ রায় দেন। তাঁর মতে, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের পরিপন্থী। 

বিচারক ভার্গাস বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এই নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন। ভিসা আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্দিষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই করে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারা নিয়ে থাকেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, জাতীয়তার ভিত্তিতে সব আবেদনকারীর ওপর একযোগে ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়েছে। 

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশও ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশও এর আওতায় পড়ে। 

আরও পড়ুনঃ এক শিক্ষকেই চলছে ১ লাখ স্কুল, শিক্ষক আছেন—শিক্ষার্থী নেই ৫৬৬৩ স্কুলে

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। সে কারণে তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। নীতিটি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়। 

তবে আদালত বলেছে, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনগত ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই। ফলে নীতিটিকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

এই রায় এসেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’-এর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে। মামলায় ৭৫ দেশের ভিসা আবেদনকারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকেরাও ছিলেন। 

রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অভিবাসীদের নির্ভরতা কমানো। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব নীতির সমালোচনা করে আসছে।