ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার তিনি বলেন, অতীতে ইরানকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করার হুমকি দেওয়ার পর আরাঘচি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তার নতুন অভিযানকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, ‘১৪ বছর আগে: ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।’ ব্যর্থ। ৮ বছর আগে: ‘সর্বোচ্চ চাপ।’ ব্যর্থ।’
তিনি আরও বলেন, পাঁচ মাস আগে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বানও ব্যর্থ হয়েছে।
আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে যে ‘সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা করেছেন, সেটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য।
নিজের পোস্টে আরাঘচি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি ছবিও প্রকাশ করেন। ছবিটির সঙ্গে ২০১২ সালের একটি বক্তব্য ছিল। সেখানে তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে ‘নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বুধবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি এটিকে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের অভিযান হবে ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’।
ইরানকে সহায়তা করা আর্থিক ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিক ‘জীবনরেখা’ দেবে, তাদেরও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
ট্রাম্প তার এই নতুন অভিযানকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করার সর্বশেষ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।