শিক্ষকদের এককালীন বোনাস আটকে দিলেন মামদানি
এককালীন বোনাস প্রদান নিয়ে আইনলঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষকদের মুখোমুখি হলেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। সিটির টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারী শিক্ষকদের এককালীন ১০,০০০ ডলার বোনাস দেওয়ার বিষয়ে সিটি কাউন্সিলে পাস হওয়া একটি নতুন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামদানি। খবর আল জাজিরার
গত বুধবার নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে পাস হওয়া রেসপেক্ট চেক অ্যাক্ট শীর্ষক বিলটি মেয়রের সরাসরি ভেটো না দেওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়। তবে সিটি কাউন্সিলে মেয়রের ভেটো বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত ভোট থাকায়, তিনি বিলটি বাতিলের উদ্দেশ্যে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন।
এই বিলটির মূল পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল শিক্ষকদের সংগঠন ইউনাইটেড ফেডারেশন অব টিচার্স (ইউএফটি) এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন। বুধবার জুলি মেনিনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা সিটির সবচেয়ে কম বেতনভুক্ত কর্মীদের অন্যতম, যাদের বার্ষিক আয় মাত্র ৩২,০০০ ডলার থেকে শুরু হয়। অন্যদিকে, এমআইটি-র জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় জীবনধারণের জন্য বার্ষিক আয় কমপক্ষে ৬০,০০০ থেকে ৭৯,০০০ ডলার হওয়া প্রয়োজন।
আইনটি পাসের সময় মেয়র মামদানি যুক্তি দেন যে, এটি প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো রাজ্য আইন ‘টেইলর ল’ (Taylor Law)-এর পরিপন্থি, যা সরকারি খাতের কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার দেয়। তবে ইউএফটি মেয়রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সিটি কাউন্সিল কোনোভাবেই যৌথ দরকষাকষির অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেনি।
মেয়র মামদানির কার্যালয়ের মুখপাত্র ম্যাট রশেনবাখ এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে যৌথ দরকষাকষির বিকল্প হতে দেব না। ইউনিয়নগুলোর নিজস্ব মেম্বারদের পক্ষে দরকষাকষি করার অধিকার সুরক্ষায় সিটি প্রশাসন এই মামলাটি দায়ের করেছে।’
তবে সিটি প্রশাসন কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও সিটির আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রেখে দ্রুত একটি সমাধানের দিকে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, গেল বছরের মেয়র নির্বাচনে শিক্ষকদের এই সংগঠনটি মামদানির পক্ষে ছিল।