২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭

৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ, অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা

৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ  © সংগৃহীত

রাজস্ব সংকোচন, সামাজিক সুরক্ষা খাতের বিপুল ব্যয় এবং ঋণের বিপরীতে রেকর্ড পরিমাণ সুদ পরিশোধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এই আশঙ্কাজনক খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, জাতীয় ঋণের এই লাগামহীন বৃদ্ধি দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। 

গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণ চার গুণ বেড়েছে। গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট-এর তথ্যমতে, ১৯৮১ সালে ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগলেও, সম্প্রতি ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মাসেরও কম।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের সময় এই ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকারি ঋণ বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও জো বাইডেনের আমলে কোভিড মহামারির সময় নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে। 

ট্রাম্পের দুই মেয়াদে ঋণ বেড়েছে মোট ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রথম মেয়াদে ৭.৮ ট্রিলিয়ন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার)। অন্যদিকে, জো বাইডেনের চার বছরের শাসনামলে মহামারি, পরিকাঠামো ও ক্লিন এনার্জি খাতে ব্যয়ের কারণে ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে দেশটির বাৎসরিক প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি চলে যায় সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাধ্যতামূলক খাতে। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

এই বিশাল জাতীয় ঋণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড মার্কেটকেও প্রভাবিত করছে। ঘাটতি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ৩০ ও ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত রিটার্ন দাবি করছেন। ফলস্বরূপ ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং এক ধাপ কমিয়ে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী ছয় বছরের মধ্যে মার্কিন ঋণ ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক এই পরাশক্তির আর্থিক ভিতকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।