অবশেষে শিশু হিন্দ রজব হত্যাকাণ্ডের অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত গাজার পাঁচ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনায় অবশেষে একটি ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনায় প্যারামেডিকদের কাছে শিশুটির জীবন বাঁচানোর আকুতিভরা রেকর্ড সম্প্রচারিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল। খবর বিবিসির
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের শিকার হওয়া একটি গাড়িতে করে পরিবারের সাতজন সদস্যের সঙ্গে ভ্রমণ করছিল এই শিশুটি। প্রাথমিক হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হলেও হিন্দ অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। তবে কয়েক দিন পর স্বজনদের মৃতদেহের পাশাপাশি তাকে উদ্ধারে যাওয়া রেড ক্রিসেন্টের দুই প্যারামেডিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেসময় তার সঙ্গে হওয়া ভয়েস কলের রেকর্ড সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
সেই ঘটনার দুই বছর পর তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সমন্বয়ে ব্যর্থতার কারণে মিলিটারি পুলিশ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন দ্বারা ঘটনাটির একটি অপরাধ তদন্ত বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে আইডিএফ স্বীকার করেছে যে তারা শিশু হিন্দ ও তার পরিবারকে বহনকারী যানবাহনে গুলি চালিয়েছিল। যদিও এর আগে তাদের প্রাথমিক তদন্তের পর আইডিএফ দাবি করেছিল যে ঘটনার সময় উক্ত এলাকায় কোনো ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি ছিল না।
গাজায় আগ্রাসন চলাকালীন বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পরিবারসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় হিন্দ রজবদের গাড়িটি ইসরায়েলি সৈন্যদের ছোঁড়া গুলির মুখে পড়েছিল। গাড়িতে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেও হিন্দ বেঁচে ছিল এবং ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহায়তা কর্মীদের কল ব্যাকের উত্তর দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছিল।
উদ্ধারকারীদের কাছে তার জীবন বাঁচানোর তীব্র করুণ আকুতি অবশেষে গুলির বিকট শব্দের মাঝে থেমে যায়। পরে তাকে উদ্ধারে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সেও গোলাবর্ষণ করা হলে শিশু হিন্দ, তার পুরো পরিবার এবং অ্যাম্বুলেন্স ক্রুদের সকলের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।