১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২

হামাস নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরল বৈঠক

মিশরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক   © সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধের অবসান ও শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ এগিয়ে নিতে হামাসের এক নেতার সঙ্গে বিরল বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। মিসরে অবস্থানকালে রবিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও গাজা নিয়ে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে আল-সিসির সঙ্গে আলোচনা করেন কুশনার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার কুশনার, ম্লাদেনভ ও ব্লেয়ার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ এগিয়ে নেওয়াই ওই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

তবে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার শর্ত দিয়েছেন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল গাজার বিষয়ে পিস বোর্ডের ১৫ দফা নথি প্রত্যাখ্যান করছে। হামাসকে সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।’

নেতানিয়াহুর এই অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি মিত্র দেশ। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সর্বশেষ খান ইউনিস ও নুসেইরাত এলাকায় ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘও এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অর্থাৎ ভূখণ্ডটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কুশনারের হামাস নেতার সঙ্গে এই বৈঠক তাই গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।