১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০২

এবার চন্দ্র অভিযানে নামছে পাকিস্তান, দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে পাঠাবে ‘জিন্নাহ-১’ রোভার

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান পাঠাবে পাকিস্তান  © টিডিসি ছবি

ভারতের চন্দ্রযান কর্মসূচির দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবার চাঁদে রোভার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। চীনের সহযোগিতায় ২০২৯ সালে প্রথমবারের মতো চন্দ্রপৃষ্ঠে রোভার পাঠাবে দেশটি। ‘জিন্নাহ-১’ নামের রোভারটি চীনের চ্যাং’ই-৮ মিশনের সঙ্গে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে যাবে এবং সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি সেখানে পানির বরফের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘জিন্নাহ-১’ সেখানে চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করবে এবং ভবিষ্যতের চন্দ্র গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরীক্ষা চালাবে।

পাকিস্তানের মহাকাশ ও উচ্চ বায়ুমণ্ডল গবেষণা কমিশন (সুপারকো) ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোভারটির নাম ঘোষণা করেছে। দেশজুড়ে আয়োজিত নাম প্রস্তাবের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪ হাজার প্রস্তাব জমা পড়ে।

সুপারকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে সাতজন প্রতিযোগী ‘জিন্নাহ-১’ নামটি প্রস্তাব করেছিলেন। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছর বয়সী তাইয়্যাব করিম ‘জিন্নাহ-১’ নামটি প্রস্তাব করে বিজয়ী হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুপারকো।

সুপারকোর চেয়ারম্যানের মতে, নামটি পাকিস্তানের জাতির জনক কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। একই সঙ্গে এটি পাকিস্তানের অগ্রযাত্রা, উন্নতি এবং মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্তে প্রবেশের প্রত্যয়কে তুলে ধরে।

এই মিশনের মাধ্যমে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো সরাসরি চন্দ্রপৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র গবেষণায় কাজে লাগবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালাবে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করেই মিশনটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালিত হবে। দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে এই এলাকায় গবেষণা চালানো কঠিন হলেও এখানেই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

২০২৪ সালে সুপারকো চীনের চ্যাং’ই-৮ মিশনের সঙ্গে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপারকো তখন এই সহযোগিতাকে পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের চন্দ্র মিশনে চীনের চ্যাং’ই-৮-এর সঙ্গে ‘জিন্নাহ-১’ রোভারও চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এর মাধ্যমে চন্দ্রবিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

ভারত দুই দশকেরও বেশি আগে চন্দ্রযান কর্মসূচি শুরু করে চাঁদ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাফল্য পেয়েছে। এবার চীনের সহযোগিতায় চাঁদের গবেষণায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চাইছে পাকিস্তান। ২০২৯ সালের ‘জিন্নাহ-১’ মিশন সফল হলে দেশটির মহাকাশ গবেষণায় এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।