১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭

চ্যাটজিপিটিতে ‘পরিবার হত্যার উপায়’ খুঁজতেন, পরে মা-ভাইকে হত্যার অভিযোগ কিশোরের বিরুদ্ধে

গ্রেপ্তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক   © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে নিজের মা ও ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে অর্জুন অরবিন্দ ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটিতে নিজের পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা ও কল্পনা নিয়ে খোঁজ করতেন। রাতভর অভিযান চালানোর পর বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, মঙ্গলবার অ্যাকটন শহরের নিজ বাড়িতে মা ৪৫ বছর বয়সী সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন অর্জুন। পরে মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্জুনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, পরিবারের সদস্যকে হামলা ও মারধরের দুটি অভিযোগ, হামলা ও মারধরের দুটি অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া গাড়ি ব্যবহারের একটি অভিযোগ এবং মোটরযান চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিডলসেক্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান ও অ্যাকটন পুলিশের প্রধান ডগলাস স্টার্নিওলো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অ্যাকটনের মার্থা লেনের বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাড়িটি বোস্টন শহর থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে।

অর্জুন অ্যাকটন-বক্সবরো রিজিওনাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর পরিবারের এক গৃহশিক্ষক নির্ধারিত সময়ে পড়াতে ওই বাড়িতে যান। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে না পেরে তিনি অর্জুনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে অ্যাকটন পুলিশ বিভাগে ফোন করে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

অর্জুনের বাবা মঙ্গলবার সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। আর ছোট ছেলে সিদ্ধার্থকে দুপুরের দিকে শেষবার দেখা যায়।

মিডলসেক্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পুলিশ বাড়িতে গিয়ে সুধা ভেঙ্কটেশন ও সিদ্ধার্থকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। সুধার মরদেহ বাড়ির বেসমেন্টে এবং তার ছেলের মরদেহ প্রথম তলায় পাওয়া যায়।

দুজনের শরীরেই ‘স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন’ ছিল। তবে প্রধান মেডিকেল পরীক্ষক এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধরন সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেননি। হত্যাকাণ্ডে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তদন্তাধীন।

এদিকে পুলিশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানতে পারে, অর্জুন এবং তার মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি—দুটিই নিখোঁজ। এরপর তদন্তকারীরা তাকে খুঁজতে অভিযান শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে তার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

বুধবার ভোরে ম্যাসাচুসেটসের ওয়েল্যান্ড শহরের একটি পার্কিং এলাকায় অন্য একটি ঘটনার তদন্তে গিয়ে পুলিশ হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়িটির সন্ধান পায়। গাড়ির ভেতরেই ছিলেন অর্জুন। পরে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তদন্তে অর্জুনের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মিডলসেক্স কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী তদন্তে জানা গেছে, অর্জুন সম্প্রতি উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নিজের পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পনা নিয়ে খোঁজ করাও ছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অর্জুন এআই চ্যাটবটকে ‘গথিক উপন্যাসের মতো গল্প’ তৈরিতে সহায়তা করতে বলেছিল। এ জন্য সে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিল এবং চরিত্রও তৈরি করেছিল।

বুধবার লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে অর্জুনকে হাজির করার কথা ছিল। তবে ওই আদালতের হত্যা মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই। তাই হত্যা ও সংশ্লিষ্ট হামলার অভিযোগে পরে তাকে কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হবে।