ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বল প্রয়োগ
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের ঘটনায় রাঁচিসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের পদক্ষেপ এবং কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি।
আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে দুটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং জেপিএসসি ও জেএসএসসির অধীনে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সব নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের সিবিআই তদন্ত। তবে এসব দাবি নিয়ে এখনো সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি।
প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা পীযূষ জানান, তাদের দাবি সমর্থনকারী যে কাউকেই তারা স্বাগত জানাচ্ছেন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে তারা দলগতভাবে সমর্থন করছেন না। পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার দুপুরে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের কোর গ্রুপ। তাদের স্পষ্ট বার্তা, দাবিদাওয়া নিয়ে তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গেই আলোচনায় বসবেন।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে কোনও প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ছাড়াই হঠাৎ রাঁচির সদর হাসপাতালে পৌঁছান ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি। সেখানে চিকিৎসাধীন দেবেন্দ্রনাথ মাহাত ও অন্যান্য আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবেন্দ্রনাথকে ভিডিও কল করে সমবেদনা জানান এবং পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনার কড়া নিন্দা করেন।