১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৩

মারা গেলেন চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু

চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রোংজি  © সংগৃহীত

চীনের আধুনিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম প্রধান কারিগর ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রোংজি মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ঝু রোংজিকে বলা হয় দেশটির আধুনিক অর্থনীতির ‘স্থপতি’। চীনের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’ নীতি বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন আপসহীন। চীনের অর্থনীতিকে কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত কাঠামো থেকে সমাজতান্ত্রিক বাজারমুখী ব্যবস্থায় রূপান্তরে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘অর্থনৈতিক জার’ ও ‘লোহকঠিন প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে খ্যাতি পান।

ঝু রোংজির সর্বশ্রেষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের ঐতিহাসিক যোগদান। তার নেওয়া বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের পথ ধরেই চীন বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয় এবং দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা সামলানো, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়।

তবে তার সংস্কার প্রক্রিয়া সর্বাংশে সহজ ছিল না। অলাভজনক ও অদক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের কারণে তৎকালীন সময়ে প্রায় ৪ কোটি মানুষকে চাকরি হারাতে হয়েছিল, যা দেশে-বিদেশে বিতর্ক সৃষ্টি করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তার অর্থনৈতিক নীতির সুফল হিসেবেই চীনে দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্যবিত্তের বিকাশ এবং শিল্পায়নের অভূতপূর্ব অগ্রগতি সম্ভব হয়।

হুনান প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী ঝু রোংজি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করে ক্যারিয়ার শুরু করেন। মাও সে তুংয়ের আমলে স্বাধীন মন্তব্যের কারণে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় নিপীড়নের শিকার হওয়াসহ বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তিনি গেছেন। পরবর্তী সময়ে সাংহাইয়ের মেয়র হিসেবে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দেং শিয়াওপিংয়ের সমর্থনে ১৯৯১ সালে দেশটির ভাইস প্রিমিয়ার ও ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে বাজারমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারও তাকে ‘আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম তীক্ষ্ণ মেধার অর্থনীতিবিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।