ভোটারতালিকা থেকে প্রকাশ রাজকে উধাও করে দিল বিজেপি
ভারতে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর প্রক্রিয়ায় নিজের ভোটাধিকার হারানোর দাবি করেছেন ভারতের খ্যতিমান অভিনেতা ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রখ্যাত সমালোচক প্রকাশ রাজ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, বেঙ্গালুরু কেন্দ্রের যে ৬৫ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ বা ‘মুছে ফেলা’ হয়েছে, তিনি তাদেরই একজন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
ভিডিও বার্তায় ৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ক্ষোভ ও ব্যঙ্গ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এই শহরেই জন্মেছি, বড় হয়েছি, পড়াশোনা ও থিয়েটার করেছি। এমনকি এই বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। অথচ আজ আমার নামই তালিকায় নেই! এটি বেশ ভালো একটি কৌতুক। তবে খেলা এখন শুরু হলো।’
উল্লেখ্য, কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বেঙ্গালুরুর প্রায় অর্ধেক ভোটারকে ‘এএসডিডিও’ বা ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত, মৃত ও অন্যান্য’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নিয়ে শহরজুড়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভোটার আইডি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রকাশ রাজ ২০১৯ সালের বিতর্কিত সিএএ-এনআরসি (CAA-NRC) বিরোধী আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগানকে ইঙ্গিত করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, ‘দেখি এখন আইডি কার্ড ফেরত পেতে ‘ক্যায়া ক্যায়া কাগজ দিখানা পাড়েগা’ (কী কী কাগজপত্র দেখাতে হয়)।’
বার্তার শেষভাগে বিজেপি সরকারের প্রতি কড়া হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা প্রয়োগ করে হয়তো এমন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় যারা আপনাকে ভোট দেবে না। কিন্তু আমাদের থামানো যাবে না। আমাদের ক্ষমতার জোর দিয়েই আমরা আপনাকে ক্ষমতা থেকে নামাব।’
প্রসঙ্গত, এর আগে প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে একাধিক (চারটি) ভোটার কার্ড রাখার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। গত মাসে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত এই সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারির পর তাকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেয়।