১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩

ইরানের হুমকির মুখে খাবার ট্রাকে লুকিয়ে বিমানবন্দরে যান ট্রাম্প, পাল্টে ফেলেন বিমান

ডোনাল্ড ট্রাম্প   © সংগৃহীত

ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে খাবার বহনকারী একটি ট্রাকে করে বিমানবন্দরের অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীদের অগোচরে একটি ছোট সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে যান। অথচ সে সময় সাংবাদিক ও কর্মীরা ধারণা করছিলেন, ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তাদের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের সফর সম্পর্কে জানেন এমন আরেক ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গত মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। ওই সফরে তিনি কাতারের দেওয়া নতুন ও সংস্কার করা একটি বিমান ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক সফরে সেটিই ছিল বিমানটির প্রথম ব্যবহার। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এতে নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের সময় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাও বাড়ছিল। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত থাকায় ওই অঞ্চলে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা নেয়।

আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এরপর গোপনে তাকে বিমানবন্দরের একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ আরেকটি ছোট বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বিমানটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সি-৩২এ।

ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ বিমানটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। ওই বিমানে ছিলেন সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরা।

এর আগে ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মাইল্ডেনহল ঘাঁটিতে যাওয়ার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ‘পুরোনো দিনের জন্য’ বিমানটি ব্যবহার করার কথা বলেছিলেন। একই সময়ে নতুন বিমানটিও ওই ঘাঁটিতে যাওয়ার কথা ছিল, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন।

তবে তখন ট্রাম্প যে তৃতীয় একটি বিমানে গোপনে যুক্তরাজ্যে যাবেন, সে তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চিউং এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

চিউং বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং এসব হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করি।’

ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া ওই বক্তব্যই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের গোপনে তৃতীয় একটি বিমানে ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সংবাদসূত্র: এনডিটিভি