০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৬

মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির শিকার বিমান, ডোপ টেস্টে পাইলটের নমুনায় মাদক শনাক্ত

তীব্র ঝাঁকুনিতে বিমানের ভেতরের ভয়াবহ অবস্থা   © সংগৃহীত

মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির শিকার হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের পাইলটের ডোপ টেস্টে মাদকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়। আরও একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়াও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭৯ ফ্লাইটটি। বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। দিল্লির পথে বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে এবং হঠাৎ করে অনেকটা নিচে নেমে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রধান পাইলটের ডোপ টেস্ট করা হয়। ওই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মাদকজাতীয় মনঃপ্রভাবক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরেকটি পরীক্ষাও করা হয়েছে। তবে সেই পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল এখনো তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। এ কারণে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছে না তারা।

এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের ফ্লাইট-পরবর্তী একটি পরীক্ষা করা হয়েছে—এ বিষয়ে আমরা অবগত। তবে পরীক্ষার ফলাফল এখনো এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে দেওয়া হয়নি। তাই পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে আমরা নেই।’

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে তাদের ক্রু সদস্যদের নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ফ্লাইট বা দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও নিয়মিতভাবে এসব পরীক্ষা করা হয়।

এয়ার ইন্ডিয়া আরও বলেছে, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রু সদস্য প্রথমবার মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হলে তাঁকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে হয়। পরে ডোপ টেস্টে নেগেটিভ ফল না আসা পর্যন্ত তিনি কাজে ফিরতে পারেন না। দ্বিতীয়বার একই ধরনের ঘটনায় তাঁর লাইসেন্স তিন বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে। তৃতীয়বার অপরাধ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া কিছু ওষুধও ডোপ টেস্টের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরীক্ষার আগে কোনো ওষুধ সেবন করলে ক্রু সদস্যকে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়।

বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ার ঘটনায় অন্তত ১৩ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া। আহত যাত্রীদের অল্প সময় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানান, দুই ক্রু সদস্যের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও ঘাড়ে আঘাত লেগেছে। আহত অবস্থাতেও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ক্রু সদস্যদের প্রশংসা করেন।

আহত যাত্রীদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পর মন্ত্রী জানান, বিমানটি প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে ছিল।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানটি হ্যাঙ্গারে নেওয়া হয়েছে। আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও জব্দ করা হয়েছে।